Showing posts with label short story. Show all posts
Showing posts with label short story. Show all posts

Tuesday, March 7, 2017

Viva La Vida (live life)



ছাদটা অন্ধকার হয়েছিল, ছাদে আসলে কখনোই বাতি লাগানো হয়নি। অবশ্য ইলেকট্রিসিটিও নেই। পুর্নিমার পরের মরা চাঁদের আলো, উঠেছেই রাত দশটায়। আব্বুর ড্রামের আমগাছ এতো বড় হয়ে গেছে! চাঁদের আলোতে বেশ ভুতুড়ে লাগছে। তার চেয়ে তাজ্জব হল এত্তো বড় মোটা গাছ কেমন করে টবের মদ্ধে আছে। আর এইসা মোটা ডালাপালা নিয়ে। একটু হাওয়া-বাতাস লাগলেই তো উলটে পড়ার কথা শেকড়সুদ্ধ!
আমি আর আরীব ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে গুট গুট গল্প করছিলাম তার নীচে, আর আকাশের তারা দেখছিলাম, ওটা হচ্ছে কালপুরুষ, ওটা হচ্ছে সপ্তর্ষিমন্ডল-
"তুমি কিন্তু এবার আর যাবে না।" "আচ্ছা আর যাব না।""যাবা না কিন্তু!""আরে না, আরও যাবো? মাথা খারাপ!"
হঠাৎ আরীব গলা জড়িয়ে ধরে কানে কানে বলল, "একটা কথা, আমি না নানা ভাইয়ের ফজলি আমের গাছ থেকে একটা আম পেড়ে খেয়ে ফেলেছি। একটাই ছিল।" "এ??" "হ্যা তো! একটাই ছিল। তুমি কিন্তু নানাভাই কে বোল না!"  "না না বোলব না!"
বলতেই পরিষ্কার ইংরেজিতে বলে উঠল আরীব, We are all travelers of time. Everyday we are traveling to future- from today to tomorrow."
আমি চোখছানাবড়া করে শুনছি!
আমাকে আরও অবাক করে দিয়ে ক্রিস মার্টিনের গলা শোনা গেল!

"I used to rule the world
Seas would rise when I gave the word
Now in the morning I sleep alone
Sweep the streets I used to own
I used to roll the dice
Feel the fear in my enemy's eyes
Listened as the crowd would sing
Now the old king is dead long live the king
One minute I held the key
Next the walls were closed on me
And I discovered that my castles stand
Upon pillars of salt and pillars of sand"

হায়রে এলার্ম !



মাছি

For I dance
And drink and sing;
Till some blind hand
Shall brush my wing
If thought is life
And strength and breath;
And the want of thought is death;
Then am I
A happy fly,
If I live
Or if I die

Little fly- by William Blake! 
ধ্যাত্তরিকা কি কবিতারে বাবা! কাল থেকে মাথায় ঘুরছে, রাত থেকে। কি কুক্ষণে যে কবিতাট চোখে পড়ল- আর সেই থেকেআম্মার সাথে ঝগড়ার কুফল। এই মহিলাটা যত নষ্টের গোড়া- শুধু শুধু গায়ে পড়ে ঝগড়া করল। অথচ কাল পরীক্ষা, কিচ্ছু পড়া হয় নাই।
পরীক্ষায় এগুলা লিখা আসব নাকি?
চান্দি ঠান্ডা করতে হবে। ছাদে গিয়া একটু হাওয়া খায়া আসি। কিন্তু মহিলাকে ক্ষেপাইতে হবে। আমি ব্লু জিন্সের সাথে সবুজ গ্রামীন চেকের পানজাবি পড়ে সাইড ব্যাগটা গলায় ঝুলায় সদর দরজা খুলতে খুলতে বল্লাম, আম্মা দরজা লাগায় দাও।
-কই যাস? গতকাল রাতে ঝগড়ার পরে আজ এই প্রথম কথা হচ্ছে।
-যাই... আমি মুচকি হাসি দিলাম।
-কই যাস?
-তোমাকে সব বলতে হবে কই যাই?
-বেশি স্বাধীনতা পেয়ে গেছ?
-কই না তো? স্বাধীনতা কাকে বলে আম্মাজান? একটু লেকচার দেন না?
(আমি আবারো একটা মুচকি হাসি দিলাম। এইবার এইবার ক্ষেপবে!)
-যা শুরু করছো...
-কি শুরু করছি? আমি তো গাজা বিড়ি সিগারেট কিছু খাই না, চাইনিজও খাই না, প্রেম-ট্রেমও করি না। মাঝে মাঝে একটু চা-সিঙ্গারা খাই। একদমে বল্লাম কথাগুলা|
-এত কথা বলিস কেন
-ট্রাকের তলে মরতে যাই...কলেজগেট! কলেজগেটে স্পীড-ব্রেকার নাই, ট্রাকের তলায় পড়া খুব কঠিন কিছু না। না চাইলেও পড়ে যাওয়া যাবে। (আমি হাসি দিলাম দাঁত বেড় করে। ক্ষেপানোর জন্য যথেষ্ট।)
-থাপড়ায় গালের দাঁত ফেলে দেব... এত কষ্ট করে বড় করছি কি ট্রাকের তলায় পড়ার জন্য?
-"
ব্যর্থ পিতামাতার ব্যর্থ সন্তান" তো... কি করবাম? ইচ্ছে করেই গলার স্বর নীচু করে বলেছি।
এইবার ভয়ঙ্কর রকমের ক্ষেপে গেছে মহিলা, "ব্যর্থ পিতামাতার ব্যর্থ সন্তান" কোন বাবা-মা এই কথা শুনতে চায়না। আমার বাদড়ামোটাও একটু মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
-আজই তোর বাবাকে বলব তোর জন্য পাত্র দেখতে। বিয়া দিলে তবে শান্তি! (চেহারা লাল-টাল হয়ে গেছে।)
-আউচ!! আম্মাজান আপনার এই কুচ্ছিত হাসের ছানাকে কে বিবাহ করবে বলেন তো? এইসব করতে যায়েন না। আমি ছাদে যাই, মাথা ঠান্ডা করতে। কাল আমার পরীক্ষা।
অমি টকাস করে আম্মার গালে একটা উম্মা দিয়ে এক দৌড়ে ছাদে।
আজকে "
আম্মাজান ক্ষেপানোর" মিশন সাকসেসফুল। 
…. “Then am I
A happy fly,
If I live
Or if I die”....




Monday, March 6, 2017

Loving Mr. Darrcy


এই সুমা! এই ঘুমাচ্ছিস? আর কত ঘুমাবি? এই লাইনটা শোন...
উম্মম...লেপের তলা থেকে আওয়াজ এল।
আর কত ঘুমাবি? ফিল্ড করে এসে গত দুদিন খালি ঘুমাচ্ছিস আর ঘুমাচ্ছিস! যা উঠে হাত মুখে পানি লাগিয়ে আয়।  আমি চা বানাচ্ছি। সন্ধ্যা হয়ে এল!
দুধ চা খাবি না লেবু চা?
লেবু চা... উঠে বসতে বসতে বল্ল সুমা। আড়মোড়া ভাঙছে।
ওকা!
আমি ইলেক্ট্রিক কেটলিতে পানি নিয়ে প্লাগ এর সুইচ অন করলাম , সুমা ঢুলতে ঢুলতে রেস্ট রুমের দিকে গেল।
লেবুর টুকরো কেটে, মগে টি ব্যাগ দিয়ে গরম পানি ঢেলে পিরিচ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তারপর যা অসাধারণ একটা চা হয় না! অবশ্য কেউ চিনি চাইলে তাও  দিতে পারে, আমি চিনি ছাড়াটাই পছন্দ করি। আর পিরিচটা খুলে দিলে লেবুর গন্ধওলা এক রাস ধোয়া যখন নাসিকাতে আক্রমণ করে পৃথিবীর কোন সুঘ্রাণের সাথে তার তুলনা চলে না মুহুর্তে।
সুমা আসার পর ওর মগটা দিলাম, লেপের মধ্যে সটান ঢুকে গেল মগ নিয়ে। ভাল ঠান্ডা পড়েছে।
কোন লাইনের কথা যেন বলছিলি তুই?
হ্যা, শোন এটার কথা বলছিলাম, “You pierce my soul. I’m half agony half hope”!
কোন বই?
পারসুয়েশন বাই জেন অস্টেন।
ক্যাপ্টেন ওয়েন্টওর্থ হচ্ছে নায়ক, সে নায়িকা এনকে চিঠি লিখছে। চিঠির প্রথম লাইন হল এটা “You pierce my soul. I’m half agony half hope”!
কেউ যদি এমন করে বলতো প্রেমে পড়ে যেতাম ঐ পোলার। sure!
তুই পড়বি প্রেমে তবেই হইছে!
সত্যি সত্যি হাহা। ঘুনপোকার মত মাথায় কথাগুলা ঢুকে গেছে, বের হচ্ছে না যে!
এবার কি ওয়েন্টওর্থ এর ক্রাশ খাইছস?
হুম
কয়দিন আগে না মিস্টার ডারসির ক্রাশ খাইছিলি?
ঐটা ক্রাশ নারে, ঐটা প্রেম! প্রাইড এন্ড প্রেজুডিসের মিস্টার ডারসির প্রেমে না পড়ে উপায় আছে! এরোগ্যান্ট, ডিসএগ্রিয়েবল, হ্যান্ডসাম, রিচ, ইয়েট আ গুড ম্যান ইনসাইড...
প্রাইড এন্ড প্রেজুডিস যতবার পড়বি ততবার প্রেম হবে।
হুম সত্যি সত্যি । সেদিন তো স্বপ্নেও দেখলাম। চায়ের মগে চুমুক দিতে দিতে বল্লাম আমি।
তুই স্বপ্নেও দেখলি?
হুম, দেখলাম মিস্টার ডার্সির মত কেউ, হোয়াইট স্কিন। আমি তারে মিস্টার ডার্সি মিস্টার ডার্সি বলে ডাকাডাকি করতেছিলাম। কাজেই বুঝলাম যে এইটা মিস্টার ডার্সি।  ব্যাপক হ্যান্ডসাম, এরোগ্যান্ট লুকিং পোলা।
তারপর? চায়ের মগে চুমুক দিল সুমা
দেখি মিস্টার ডার্সি, আমার চৌদ্দগুষ্ঠি আর আমি নানির বাড়িতে বিরিয়ানি খাইতেছিলাম।
কোন বিরিয়ানি?
হাজিরটা। মেজো মামা অর্ডার দিয়া আসছিল।
তারপর শোন মিস্টার ডার্সি খালি কথায় কথায় আমাকে খেপায় আর সবাই খুব মজা নেয়। আর আমার চড়ম মেজাজ খারাপ হয়।
আমি এমন চেতলাম যে নানুর বাসার পাশে আমার আরেকটা নানুর বাসা আছে, ঐখানে গেলাম। ঐ বাসায় আবার আমার খালা আছে সুমি - একই বয়সী তাই বন্ধুও । তারে বল্লাম, আমি তোমার সাথে থাকব। কেউ যদি আমারে খুঁজে বলবা আমি নাই। 
আমি টিভি দেখছিলাম। এর মধ্যে সুমি গেছে চা বানাতে। দরোজায় টক টক। সুমি বলে দেখতো!
আমি দরোজা খুলে দেখি মিস্টার ডার্সি। তারপর?
সূর্যাস্তের সময় যেমন আকাশটা সোনালি হয়ে যায় ঠিক সেইরকম আলো আশেপাশে। আর মিস্টার ডার্সি আমার দিকে তাকায় আছে, আমিও তাকায় আছি। মুভিতে যেমন ক্যামেরা ঘুরায় নায়ক-নায়িকার তাকায় থাকার মুহুর্তে, ঠিক সেই রকম করে ঘুরছিল আশপাশ। মিস্টার ডার্সি বল্ল “In vain have I struggled. It will not do. My feelings will not be repressed. You must allow me to tell you how ardently I admire and love you.” 
তারপর?

তারপর দরজায় কে জানি টক টক করল, আর আম্মা আমাকে ডেকে বল্ল, “ফজরের ওয়াক্ত চলে যাচ্ছে। নামাজ পড়বি না?” আমারো ঘুমটা ভেঙে গেল, আর আমি দেখি সিলিঙের দিকে তাকায় আছি!